⌂JASC↑
Muslim Circle of Canada logo
MCC Newsletter
July Newsletter 2026
HomeJuly NewsletterContribute

Qur’an / Hadith Reflection

সূরা মুলক রিফ্লেকশন

Farzana Yeasmin, Edmonton

Share
f 𝕏 W ✉

সূরা মূলক কিভাবে আমল করলে তা আমাদের কবরের আযাব থেকে নাযাতের কারন হতে পারে!!

সূরা মূলক আমরা অনেকেই হয়ত প্রতি রাতে পড়ি কবরের আযাব থেকে নাযাত পাওয়ার আশায়। যেহেতু এই হাদিস সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই তবে যেকোনো আমল বুঝে শুনে হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করার মাধ্যমেই প্রকৃত হাসানা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশী। যে আমল না বুঝে উদাসীন অন্তর নিয়ে করা হয় তা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয়না। তাছাড়া কুরআনের যেকোনো সূরা তখনি আমাদের জন্য নাযাতের কারন হবে যখন তার প্রভাব আমাদের জীবনে পড়বে এবং আমাদের জীবন কুরআন দ্বারা পবিত্রায় পরিবর্তিত হবে।

তাহলে আসুন সূরা মূলক নিয়ে জানি এবং চিন্তা ভাবনা করি...

আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি পাখি এবং ফেরেশতাদের কিছু বৈশিষ্ট্য এর মাঝে গভীর মিল আছে??? এই পাখি দেখে আমরা কি শিক্ষা নিতে পারি?

اَوَلَمْ يَرَوْا اِلَي الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صٰٓفّٰتٍ وَّيَقْبِضْنَ ؔۘؕ مَا يُمْسِكُهُنَّ اِلَّا الرَّحْمٰنُ ؕ اِنَّهٗ بِكُلِّ شَيْءٍۭ بَصِيْرٌ

অর্থ: "তারা কি লক্ষ্য করেনা তাদের উর্ধ্বদেশে বিহঙ্গকূলের প্রতি, যারা ডানা বিস্তার করে ও সংকুচিত করে? দয়াময় আল্লাহই তাদেরকে স্থির রাখেন। তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।"(সূরা মূলক:৬৭:১৯)

As-Saffat 37:1

وَالصّٰٓفّٰتِ صَفًّا ۙ
শপথ তাদের যারা *সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান।
(সূরা সফফাত:৩৭:১)

দুই আয়াতে “صَافَّات / صَافَّاتٍ” শব্দটি একই মূল ধাতু (ص ف ف) থেকে এসেছে, যার মূল অর্থ সারি করে দাঁড়ানো বা সাজানো। কিন্তু প্রয়োগ ও অর্থের দৃষ্টিতে পার্থক্য আছে।

সূরা আস-সাফফাত ৩৭:১

وَالصّٰفّٰتِ صَفًّا

এখানে الصّٰفّٰتِ দ্বারা অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে।
অর্থ:
ফেরেশতারা আল্লাহর ইবাদতের জন্য সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে।
📌 এখানে সারি করে দাঁড়ানো (standing in rows) বোঝানো হয়েছে।
অর্থাৎ — শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে দাঁড়ানো।

সূরা আল-মুলক ৬৭:১৯

صٰٓفّٰتٍ
এখানে পাখিদের বর্ণনা করা হয়েছে।

অর্থ:
পাখিরা যখন আকাশে উড়ে তখন ডানা প্রসারিত করে (spread wings)।

📌 এখানে ডানা ছড়িয়ে রাখা বা বিস্তার করা বোঝানো হয়েছে।

তবে যেহেতু উভয় ক্ষেত্রে মূল ধাতু একই ।এই পাখি এবং ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য এর মাঝে কিছু ক্ষেত্রে গভীর মিল আছে......

✅যেমন, পাখিরাও আকাশে ভেসে বেড়ায়, তেমনি ফেরেশতারাও উর্ধ্বাকাশে(প্রতিটি আসমানেই) ভাসন্ত অবস্থায় ই সারিবদ্ধ ভাবে কাতারবন্দি করে দাঁড়ায়।

✅ ফেরেশতারা এমনভাবে কাতারবন্দি করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায় যেন কোন ফাঁক না থাকে। পাখিও উড়ার সময় যেভাবে ডানা বিস্তার করে রাখে সেটা কাতারেরি মতই সোজা থাকে।

✅ পাখিদের ডানা আছে। ফেরেশতাদের ও ডানা আছে।

✅ পাখিও জমিনে ল্যান্ড করে। ফেরেশতারাও জমিনে ল্যান্ড করে আল্লাহর অনুমতি ক্রমে।

পাখি থেকে আমাদের কি শিক্ষা নেয়া উচিৎ? যেহেতু আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে বলা হয়েছে সূরা আল ইমরানের ১৯১ আয়াতে....

الَّذِيْنَ يَذْكُرُوْنَ اللّٰهَ قِيٰمًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰي جُنُوْبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُوْنَ فِيْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ۚ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبْحٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

যারা দন্ডায়মান, উপবেশন ও এলায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃষ্টি বিষয়ে চিন্তা-গবেষনা করে এবং বলেঃ হে আমাদের রাব্ব! আপনি এসব বৃথা সৃষ্টি করেননি; আপনিই পবিত্রতম! অতএব আমাদেরকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করুন!(সূরা আল ইমরান :৩:১৯১)

সুতরাং আমরা যখনি আকাশে পাখি ভেসে বেড়াতে দেখবো তখনি ফেরেশতাদের কথা স্মরণ করবো। আর ফেরেশতাদের কথা মনে হলেই মনে হবে কিয়ামতের দিন তাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর কথা, মৃত্যুর সময় ডুব দিয়ে দেহ থেকে আত্মা টেনে বের করে আনার কথা, জাহান্নামের কড়া প্রকৃতির ফেরেশতাদের কথা যারা আল্লাহর হুকুম পালনে কোন ব্যতিক্রম করেনা, দুই কাধের ফেরেশতাদের কথা যারা কখনো সত্য লিখতে কারচুপি করেনা। এগুলো আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য স্মরনিকা হয়ে থাকবে। ফেরেশতার কথা মনে হলেই মনে হবে মসজিদে জামায়াতে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে কাতারবন্দি হওয়ার কথা, প্রথম সারি পূর্ণ করার কথা, কাতারবন্দি হয়ে মুসলিম রা মিলে মিশে আল্লাহর পথে লড়াই করার কথা।

পাখি যেভাবে আল্লাহর একধরণের সৃষ্টি তেমনি ফেরেশতারাও আল্লাহর এক প্রকার সৃষ্টি। পাখি আকাশে উড়তে পারাটা যেমন আল্লাহর ইচ্ছাধীন তেমনি ফেরেশতারাও অদৃশ্যে ভেসে বেড়ানো আল্লাহর ইচ্ছাধীন। অথচ মক্কার মুশরিকরা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহর কন্যা বলত (নাউজুবিল্লাহ)। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এসব নাপাক কথাবার্তা থেকে পাক পবিত্র (সুবহানাল্লাহ)।

সূরা আল মূলকের পাখির আকাশে উড়ে বেড়ানোর কথা বর্ননা করার পরেই এসেছে,

اَمَّنْ هٰذَا الَّذِيْ هُوَ جُنْدٌ لَّكُمْ يَنْصُرُكُمْ مِّنْ دُوْنِ الرَّحْمٰنِ ؕ اِنِ الْكٰفِرُوْنَ اِلَّا فِيْ غُرُوْرٍ ۚ

দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের এমন কোন সৈন্যবাহিনী আছে কি যারা তোমাদের সাহায্য করবে? কাফিরেরা তো বিভ্রান্তিতে রয়েছে।(সূরা আল মূলক:৬৭:২০)

এই পাখি, এই ফেরেশতারা আল্লাহর সৈন্যবাহিনী। যারা আল্লাহর হুকুম পালনে কোন বিলম্ব করেনা। কারন এই পাখি দিয়েই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আবরাহার দলকে ধ্বংস করেছিলেন। আবার এই ফেরেশতা দিয়েই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রতিনিয়ত অসংখ্য দায়িত্ব পালন করান এমনকি বদর যুদ্ধের সৈনিক ছিল এই ফেরেশতারা। আল্লাহ তার সৃষ্টিকূল দিয়ে যেমন মানুষকে সাহায্য করেন(সূর্য্য,পানি, আগুন, বাতাস, জীন জন্তু ইত্যাদি), তেমনি এই সৃষ্টিকূল দিয়ে মানুষকে দুনিয়াতে যেমন পাকড়াও করেন তেমনি আখিরাতেও(আগুন, ফুটন্ত পানি, ঝাক্কুম,ফেরেশতা)।

কাফিরদের কি এধরণের কোন সৈন্য আছে যারা কিনা কিয়ামত দিন আসলেই কোন কাজে আসবে কিংবা দুনিয়ার পাকড়াও ঠেকাতে কোন কাজে আসবে? তাদের মিথ্যা মাবূদরা না দুনিয়ায় কোন উপকারে আসে না আখিরাতে আসবে। তারা আল্লাহর যেসব সৃষ্টির ইবাদাত করে এই আশায় যে আখিরাতে তারা মুক্তির কিংবা সুপারিশে কোন কাজে আসবে সেটা মিথ্যা আশ্বাস ব্যতীত আর কিছুইনা।

কারন সেদিন জাহান্নামের ইন্দন হবে মানুষ এবং পাথর। জাহান্নামে মিথ্যা মাবূদ এবং তার উপাসনাকারীদেরকে একত্রে নিক্ষেপ করা হবে। তাই জাহান্নামে সূর্যকেও নিক্ষেপ করা হবে কারন কিছু মানুষ সূর্য্যের পূজা করত। অগ্নি পূজকরা আগুনের ইবাদাত করত, প্রকৃতি পূজারীরা প্রকৃতির পূজা করত। এভাবে যা কিছুর পূজা করা হত এমন সব সৃষ্টিকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। যারা শয়তানের পূজা করত তাদেরকে শয়তান সহ আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। যারা জ্বীনদের পূজা করত এবং জ্বীনরাও নিজেদেরকে মাবূদ মনে করত তাদেরকেও একসাথে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। এজন্য নিক্ষেপ করা হবে যেন মুশরিকরা জানতে পারে যে তাদের নিজেরাই নিজেদেরকে বাঁচানোর কোন ক্ষমতা নেই।

احْشُرُوا الَّذِينَ ظَلَمُوا وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ
مِن دُونِ اللَّهِ فَاهْدُوهُمْ إِلَىٰ صِرَاطِ الْجَحِيمِ
[ফেরেশতাদেরকে বলা হবে:] তোমরা একত্র জড়ো কর জালেমদের, তাদের শ্রেণিভুক্ত সবাইকে এবং তাদেরকে — যাদের ইবাদত তারা করত, আল্লাহর পরিবর্তে; এবং তাদেরকে জাহান্নামের পথে পরিচালিত কর।
[সূরা আস সাফফাত, ৩৭ : ২২-২৩]

তবে যারা ঈসা(আ:), উযাইর(আ:) কে আল্লাহর পূত্র সাব্যস্ত করে তাদেরকে মাবূদ বানিয়ে নিয়েছে সেক্ষেত্রে কিয়ামতের দিন ঈসা(আ:) এবং উযাইর(আ:) কে জিজ্ঞাসিত করা হবে তোমরা কি নিজেদেরকে মাবূদ ডাকার দাওয়াত দিয়েছিলে? তখন ওনারা সত্য বলবেন এবং আল্লাহর একত্ববাদের প্রশংসা করবেন। আর ফেরেশতারাও নিজেদের মাবূদ না হওয়ার ব্যাপারে সত্য কথা বলবেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করবেন।সেজন্য ওনারা জাহান্নামের ইন্দন হবেনা। তেমনি দুনিয়াতে যেসব আলেমদের কবর পূজা করা হবে তারাও যদি তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে থাকেন কিয়ামতের দিন তারাও নিস্তার পাবেন। কারন ওনাদের মৃত্যুর পর যা হয়েছে সেক্ষেত্রে ওনাদের নিয়ন্ত্রণ ছিলনা। অর্থাৎ মুত্তাকিরা মুক্তি পাবে।

وَفَوْرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيَاطِينَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا
ثُمَّ لَنَنزِعَنَّ مِن كُلِّ شِيعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَى الرَّحْمَٰنِ عِتِيًّا
ثُمَّ لَنَحْنُ أَعْلَمُ بِالَّذِينَ هُمْ أَوْلَىٰ بِهَا صِلِيًّا
وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَىٰ رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا
ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا

সুতরাং আপনার রবের শপথ! অবশ্যই আমি তাদেরকে ও শয়তানদেরকে সমবেত করব, তারপর জাহান্নামের চারপাশে তাদেরকে হাজির করব নতজানু অবস্থায়। এরপর প্রত্যেক দল থেকে তাদেরকে টেনে বের করব যারা পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অবাধ্য ছিল। আর তাদের মধ্যে কারা জাহান্নামে পোড়ার বেশি যোগ্য তা আমিই সবচেয়ে ভাল জানি।
আর তোমাদের প্রত্যেকেই [জাহান্নামে] পৌঁছবে — এটি আপনার রবের জন্য অবশ্যই নির্ধারিত একটি বিষয়। তারপর মুত্তাকীদেরকে আমি রক্ষা করব এবং জালেমদেরকে নতজানু অবস্থায় সেখানে ফেলে রাখব।
[সূরা মারইয়াম, ১৯ : ৬৮-৭২]

কিন্তু যেসব আলেম মাশায়েখ কিংবা অন্যান্য দলের নেতারা নিজেদের অনুসারিদেরকে পথভ্রষ্ট করত এবং নিজেদেরকে মাবূদের পর্যায়ে নিয়ে যেত তাদেরকে তাদের অনুসারী সহ আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।

[আল্লাহ] বলবেন: তোমাদের পূর্ববর্তী জিন ও মানুষের যে সমস্ত দল জাহান্নামে রয়েছে তাদের সাথে তোমরাও প্রবেশ কর। নতুন কোন দল এতে প্রবেশ করা মাত্র একই মতাবলম্বী অপর দলকে তারা লানত দেবে। অবশেষে তারা সবাই যখন সেখানে একত্রিত হবে, তাদের পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবে: হে আমাদের রব! এরাই আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, সুতরাং এদেরকে জাহান্নামের দ্বিগুণ শাস্তি দিন।
[আল্লাহ] বলবেন: প্রত্যেকের জন্যই দ্বিগুণ নির্ধারিত রয়েছে, কিন্তু তোমরা জান না। আর তাদের পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদেরকে বলবে: আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কাজেই তোমরা যে পাপ কামাই করতে তার জন্য এখন শাস্তি ভোগ কর।
[সূরা আল আ‘রাফ, ৭ : ৩৮–৩৯]

তারপর তাদেরকে যেভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে নিক্ষেপ করার সময় তাদের সাথে আযাবের ফেরেশতাদের কি কথোপকথন হবে তাই আয যুমার এর ৭১ নং আয়াত এবং সূরা মূলক এর ....

تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ ؕ كُلَّمَاۤ اُلْقِيَ فِيْهَا فَوْجٌ سَاَلَهُمْ خَزَنَتُهَاۤ اَلَمْ يَاْتِكُمْ نَذِيْرٌ

রোষে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে, যখনই তাতে কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তাদেরকে রক্ষীরা জিজ্ঞেস করবেঃ তোমাদের নিকট কি কোন সতর্ককারী আসেনি?(সূরা আল মূলক:৬৭:৮)

قَالُوْا بَلٰي قَدْ جَآءَنَا نَذِيْرٌ ۙ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللّٰهُ مِنْ شَيْءٍ ۚۖ اِنْ اَنْتُمْ اِلَّا فِيْ ضَلٰلٍ كَبِيْرٍ

তারা বলবেঃ অবশ্যই আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল, আমরা তাকে মিথ্যাবাদী গণ্য করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরাতো মহা বিভ্রান্তিতে রয়েছ।(সূরা আল মূলক:৬৭:৯)

وَقَالُوْا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ اَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِيْۤ اَصْحٰبِ السَّعِيْرِ

এবং তারা আরও বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম তাহলে আমরা জাহান্নামবাসী হতামনা।(সূরা আল মূলক:৬৭:১০)

Az-Zumar 39:71

وَسِيْقَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْۤا اِلٰي جَهَنَّمَ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤي اِذَا جَآءُوْهَا فُتِحَتْ اَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَاۤ اَلَمْ يَاْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنْكُمْ يَتْلُوْنَ عَلَيْكُمْ اٰيٰتِ رَبِّكُمْ وَيُنْذِرُوْنَكُمْ لِقَآءَ يَوْمِكُمْ هٰذَا ؕ قَالُوْا بَلٰي وَلٰكِنْ حَقَّتْ كَلِمَةُ الْعَذَابِ عَلَي الْكٰفِرِيْنَ

কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে উপস্থিত হবে তখন ওর প্রবেশ দ্বারগুলি খুলে দেয়া হবে এবং জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেঃ তোমাদের নিকট কি তোমাদের মধ্য হতে রাসূল আসেনি যারা তোমাদের নিকট তোমাদের রবের আয়াত আবৃত্তি করত এবং এই দিনের সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সতর্ক করত? তারা বলবেঃ অবশ্যই এসেছিল। বস্তুতঃ কাফিরদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হয়েছে।(সূরা আয যুমার:৩৯:৭১)

এখানে আমাদের নাযীর কারা? কারা আমাদেরকে সতর্ক করত? কি ধরনের সতর্ক করত? আমরা কি আমাদের নাযীরদের কথা শুনি এখন? আমাদের সংশোধন এর উদ্যেশ্যে ঘরে বাহিরে অসংখ্য নাযীর কি নেই? কুরআন আমাদের নাযীর, হাদিস আমাদের নাযীর। যারা কুরআনের আলোচনা করে তারা আমাদের নাযীর, যারা হাদিসের আলোচনা করে তারা আমাদের নাযীর,মন্দ কাজ ছাড়ার জন্য যারা বলেন তারা আমাদের নাযীর, মন্দ চরিত্র সংশোধন করার জন্য যারা বলেন তারা আমাদের নাযীর, মসজিদে যেতে বলেন যারা তারা আমাদের নাযীর, নামাজের তাগিদ দেয় যারা তারা আমাদের নাযীর, যাকাত দিতে বলে যারা তারা আমাদের নাযীর, শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াতের শিক্ষা দেয় যারা তারা আমাদের নাযীর। এরা প্রত্যেকেই এক এক জন নাযীর। মোটকথা যেসব কারনে মুমিন বান্দারাও গুনাহের কারনে জাহান্নামে যেতে পারে সেসব কারনে সংশোধন হওয়ার ব্যাপারে যারাই সতর্ক করে তারা সবাই নাযীর।

তাদেরকে কিভাবে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তার ও একটা বিবরন আছে.....

يَوْمَ يُدَعُّوْنَ اِلٰي نَارِ جَهَنَّمَ دَعًّا ؕ

যেদিন তাদেরকে হাকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে।(সূরা তূর:৫২:১৩)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বাগাবী তার তাফসীরর বলেন,
তাদেরকে কঠোরতা এবং কর্কশতার সহিত জাহান্নামের দিকে ধাক্কা দিতে দিতে নিয়ে যাওয়া হবে৷ জাহান্নামের প্রহরীরা তাদের হাত গলার সাথে বেড়ী দিয়ে বাধবেন এবং মাথার অগ্রভাগের সহিত পা একত্রিত করবেন তারপর ঘাড় ধরে চেহারার উপর উপড় করা অবস্থায় ধাক্কিয়ে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবেন। (তাফসীরে বাগাবী ৪/২৯১)

এটাই কিয়ামতের দিন তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা যেটা সূরা আল মূলকের ২২ নং আয়াতে এবং সূরা ফুরকানের ৩৪ নং আয়াতে।

Al-Furqan 25:34

اَلَّذِيْنَ يُحْشَرُوْنَ عَلٰي وُجُوْهِهِمْ اِلٰي جَهَنَّمَ ۙ اُولٰٓئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّاَضَلُّ سَبِيْلًا

যাদেরকে মুখে ভর দিয়ে দিয়ে চলা অবস্থায় জাহান্নামের দিকে একত্র করা হবে, তাদেরই স্থান হবে অতি নিকৃষ্ট এবং তারাই পথভ্রষ্ট।(সূরা আল ফুরকান:২৫:৩৪)

اَفَمَنْ يَّمْشِيْ مُكِبًّا عَلٰي وَجْهِهٖۤ اَهْدٰۤي اَمَّنْ يَّمْشِيْ سَوِيًّا عَلٰي صِرَاطٍ مُّسْتَقِيْمٍ

যে ব্যক্তি মুখে ভর দিয়ে ঝুকে চলে সে কি ঠিক পথে চলে, না কি সেই ব্যক্তি যে সরল পথে চলে?

এখানে সরল পথে চলা বলতে সেসব মুমিনদেরকে বলা হয়েছে যারা কিয়ামতের দিন হিসাব নিকাশের পর পুল সিরাত পার হয়ে জান্নাতে চলে যাবে। আর কাফির মুশরিকদেরকে হিসাব ছাড়াই পুলসিরাত এর আগেই জাহান্নামে উবু করে নিক্ষেপ করা হবে।

আর হোরায়রা বর্ণিত হাদীসে এসেছে:

كذلك يجمع الله الناس يوم القيامة فيقول: من كان يعبد شيئًا فليتبعه، فيتبع من كان يعبد الشمس الشمس، ويتبع من كان يعبد القمر القمر، ويتبع من كان يعبد الطواغيت الطواغيت.

এভাবেই আল্লাহ কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে একত্র করবেন। তারপর তিনি বলবেন, যে যেটার ইবাদত করত, সে তার অনুসরণ করুক। যারা সূর্যের ইবাদত করত, তারা সূর্যের অনুসরণ করবে; যারা চাঁদের ইবাদত করত, তারা চাঁদের অনুসরণ করবে; আর যারা তাগুতদের ইবাদত করত, তারা তাগুতদের অনুসরণ করবে।

وتبقى هذه الأمة فيها منافقوها، فيأتيهم الله تبارك وتعالى في صورة غير صورته التي يعرفون، فيقول: أنا ربكم؛ فيقولون: نعوذ بالله منك، هذا مكاننا حتى يأتينا ربنا، فإذا جاء ربنا عرفناه، فيأتيهم الله تعالى في صورته التي يعرفون، فيقول: أنا ربكم؛ فيقولون: أنت ربنا؛ فيتبعونه.

আর এই উম্মতটি থেকে যাবে, তাদের মধ্যে থাকবে তাদের মুনাফিকরাও। তখন আল্লাহ তাবারাক ওয়া তা'আলা তাদের নিকট অচেনা এক রূপে তাদের কাছে আসবেন। তিনি বলবেন, আমি তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে, আমরা আল্লাহর কাছে তোমার থেকে আশ্রয় চাই; আমরা এখানেই থাকব যতক্ষণ না আমাদের প্রতিপালক আমাদের কাছে আসেন। যখন আমাদের প্রতিপালক আসবেন, তখন আমরা তাঁকে চিনতে পারব। এরপর আল্লাহ তাদের কাছে তাদের নিকট পরিচিত রূপে আসবেন। তখন তিনি বলবেন, আমি তোমাদের প্রতিপালক। তারা বলবে, আপনিই আমাদের প্রতিপালক। এরপর তারা তাঁর অনুসরণ করবে। [মুসলিম (১৮২]

Share
f 𝕏 W ✉

Send a Comment

Your comment will be sent privately to the MCC Newsletter team and will not be published on the website.

Back to July Newsletter

In this newsletter

Cover Story Safar and Young Writers Qur’an and Faith Reflections Poetry and Islamic Manners MCC Convention 2026 MCC Updates

Write for MCC Newsletter

Submit reflections, essays, poetry, commentary, or community stories. Up to 4 images may be uploaded with each submission.

Submit a Write-up
© Muslim Circle of Canada · Back to July Newsletter