Al-Hadid 57:12
يَوْمَ تَرَي الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنٰتِ يَسْعٰي نُوْرُهُمْ بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَبِاَيْمَانِهِمْ بُشْرٰىكُمُ الْيَوْمَ جَنّٰتٌ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِيْنَ فِيْهَا ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ ۚ
সেদিন তুমি দেখবে মু’মিন নর-নারীদেরকে তাদের সম্মুখ ভাগে ও ডান পাশে তাদের জ্যোতি বিচ্ছুরিত হবে। (বলা হবে) আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ জান্নাতের, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত হবে, সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে, এটাই মহা সাফল্য।
Al-Hadid 57:13
يَوْمَ يَقُوْلُ الْمُنٰفِقُوْنَ وَالْمُنٰفِقٰتُ لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوا انْظُرُوْنَا نَقْتَبِسْ مِنْ نُّوْرِكُمْ ۚ قِيْلَ ارْجِعُوْا وَرَآءَكُمْ فَالْتَمِسُوْا نُوْرًا ؕ فَضُرِبَ بَيْنَهُمْ بِسُوْرٍ لَّهٗ بَابٌ ؕ بَاطِنُهٗ فِيْهِ الرَّحْمَةُ وَظَاهِرُهٗ مِنْ قِبَلِهِ الْعَذَابُ ؕ
সেদিন মুনাফিক নর ও নারী মু’মিনদের বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্য একটু থাম, যাতে আমরা তোমাদের জ্যোতির কিছু গ্রহণ করতে পারি। বলা হবেঃ তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান কর। অতঃপর উভয়ের মাঝে স্থাপিত হবে একটি প্রাচীর যাতে একটি দরযা থাকবে, ওর অভ্যন্তরে থাকবে রাহমাত এবং বহির্ভাগে থাকবে শাস্তি।
Al-Hadid 57:14
يُنَادُوْنَهُمْ اَلَمْ نَكُنْ مَّعَكُمْ ؕ قَالُوْا بَلٰي وَلٰكِنَّكُمْ فَتَنْتُمْ اَنْفُسَكُمْ وَتَرَبَّصْتُمْ وَارْتَبْتُمْ وَغَرَّتْكُمُ الْاَمَانِيُّ حَتّٰي جَآءَ اَمْرُ اللّٰهِ وَغَرَّكُمْ بِاللّٰهِ الْغَرُوْرُ
মুনাফিকরা মু’মিনদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করবেঃ আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলামনা? তারা বলবেঃ হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ; তোমরা প্রতীক্ষা করেছিলে, সন্দেহ পোষণ করেছিলে এবং অলীক আকাংখা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল আল্লাহর হুকুম আসা পর্যন্ত, আর মহা প্রতারক তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল আল্লাহ সম্পর্কে।
ব্যাখ্যা: এটা কিয়ামতের দিনের পুলসিরাতের উপরের একটা দৃশ্য। পুলসিরাতের আগ পর্যন্ত মুমিন মুনাফিক সবাইকে নূর বন্টন করা হবে। সেদিন আল্লাহর নূর ব্যতীত আর কোন আলো থাকবেনা। কিন্তু মুনাফিকরা পুলসিরাতের উপর উঠলেই মাঝপথে নূর নিভে যাবে এবং তারা জাহান্নামে পড়ে যাবে। এটা দেখে মুমিনরা ভয় পেয়ে যাবে। তাই তারা সেখানে একটি দুয়া করবে যেন তাদের নূর পূর্নতা পায় এবং সেই নূর দিয়ে জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। দুয়াটি এসেছে সূরা আত তাহরীমের ৮ নং আয়াতে। সূরা আত তাহরীম একটি পারিবারিক সূরা। কিয়ামতের দিন মুমিন ব্যক্তির নূরের সাহায্যে তাদের মুমিন সন্তানগন ও সাথে সাথে চলবে সুবহানাল্লাহ, আল্লাহ আমাদেরকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন! পুলসিরাতের দুয়াটি আমরা দুনিয়াতেও নিয়মিত পাঠ করতে পারি।
At-Tahrim 66:8
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا تُوْبُوْۤا اِلَي اللّٰهِ تَوْبَةً نَّصُوْحًا ؕ عَسٰي رَبُّكُمْ اَنْ يُّكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّاٰتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ۙ يَوْمَ لَا يُخْزِي اللّٰهُ النَّبِيَّ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مَعَهٗ ۚ نُوْرُهُمْ يَسْعٰي بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَبِاَيْمَانِهِمْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَاۤ اَتْمِمْ لَنَا نُوْرَنَا وَاغْفِرْ لَنَا ۚ اِنَّكَ عَلٰي كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর, বিশুদ্ধ তাওবাহ; সম্ভবতঃ তোমাদের রাব্ব তোমাদের মন্দ কাজগুলি মোচন করে দিবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। সেই দিন নাবী এবং তাঁর বিশ্বাসী বান্দাদেরকে আল্লাহ অপদস্ত করবেননা। তাদের জ্যোতি তাদের সম্মুখে এবং দক্ষিণ পার্শ্বে ধাবিত হবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! আমাদের জ্যোতিকে পূর্ণতা দান করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আপনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।
সকল মুমিনদের নূর আবার সমান হবেনা। প্রত্যেকের আমল অনুযায়ী নূর কম বেশী হবে। সর্বোচ্চ নূরপ্রাপ্ত ব্যক্তির নূর অনেক দূর পর্যন্ত যাবে। তেমনি গাছ সমান কিংবা নিজের উচ্চতা সমান, হাত সমান, আংগুল সমান হবে। নূরের এই ধরণ বোঝার জন্য আরেকটা দুয়া আছে যেটা রাসূল(স:) তাহাজ্জুদের সময় যখন মসজিদে।ফজরের নামাজ পড়তে যেতেন তখন পড়তেন। তাই।এটাকে তাহাজ্জুদের দুয়াও বলে। দুয়াটি হিসনুল মুসলিম এ্যাপে সালাত অধ্যায়ে আছে। দুয়াটি দিলাম এবং বোল্ড মার্ক করা শব্দ গুলো নূরের পূর্ণতা বোঝায়।
ফজরে মসজিদে যাওয়ার সময়ে পড়ার দো‘আ
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ فِيْ قَلْبِيْ نُوْرًا، وَفِيْ لِسَانِيْ نُوْرًا، وَفِيْ سَمْعِيْ نُوْرًا، وَفِيْ بَصَرِيْ نُوْرًا، وَمِنْ فَوْقِيْ نُوْرًا، وَمِنْ تَحْتِيْ نُوْرًا، وَعَنْ يَمِيْنِيْ نُوْرًا، وَعَنْ شِمَالِيْ نُوْرًا، وَمِنْ اَمَامِيْ نُوْرًا، وَمِنْ خَلْفِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ فِيْ نَفْسِيْ نُوْرًا، وَاَعْظِمْ لِيْ نُوْرًا، وَعَظِّمْ لِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ لِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْنِيْ نُوْرًا، اَللّٰهُمَّ اَعْطِنِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ فِيْ عَصَبِيْ نُوْرًا، وَفِيْ لَحْمِيْ نُوْرًا، وَفِيْ دَمِيْ نُوْرًا، وَفِيْ شَعْرِيْ نُوْرًا، وَفِيْ بَشَرِيْ نُوْرًا
হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরে নূর (বা আলো) দান করুন, আমার যবানে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দান করুন, আমার দর্শনশক্তিতে নূর দান করুন, আমার উপরে নূর দান করুন, আমার নীচে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার আত্মায় নূর দান করুন, আমার জন্য নূরকে বড় করে দিন, আমার জন্য নূর বাড়িয়ে দিন, আমার জন্য নূর নির্ধারণ করুন, আমাকে আলোকময় করুন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন, আমার পেশীতে নূর প্রদান করুন, আমার গোশ্তে নূর দান করুন, আমার রক্তে নূর দান করুন, আমার চুলে নূর দান করুন ও আমার চামড়ায় নূর দান করুন।
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ لِيْ نُوْرًا فِيْ قَبْرِيْ… وَنُوْرًا فِيْ عِظَامِيْ
হে আল্লাহ! আমার জন্য আমার কবরে নূর দিন, আমার হাড়সমূহেও নূর দিন
وَزِدْنِيْ نُوْرًا، وَزِدْنِيْ نُوْرًا، وَزِدْنِيْ نُوْرًا
আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন, আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন, আমাকে নূরে বৃদ্ধি করে দিন।
وَهَبْ لِيْ نُوْرًا عَلٰى نُوْرٍ
আমাকে নূরের উপর নূর দান করুন।
(বুখারী,তিরমিজি)
Send a Comment
Your comment will be sent privately to the MCC Newsletter team and will not be published on the website.