সফর অনন্তের

যুলক্বারনাইন

জ্ঞানে নেই, কবে শুরু মোদের অনন্তের সফর সেই
রুহ জগতে সকলের যাত্রা হয়ত একই সময়েই
আত্মার বন্ধনে রবের জগতে হয়ত ছিলাম বেশ
‘রব কি তোমাদের?’ জবাবে হ্যাঁ, কোরাস ছিল বেশ
আর ছিল নবী ইবরাহীমের আজানের সাড়াদান
স্মৃতিবেশে তা ইহলোক মনে করে নেয় আপন স্থান।

অতঃপর যখন জাগে হুশ বোধ, স্মৃতি ও মনন
চেনা শুরু তোমাকে, পিতামাতা শিক্ষক কারণ
সৃষ্টি গবেষণায় অভিভূত হয়ে রয়ে বারবার
জ্ঞানের ক্ষুদ্রতায় সিজদারত কৃতজ্ঞ চিত্তে আর
রেখো মোদের আজীবন তোমারই প্রতিষ্ঠিত পথে
দয়া, ক্ষমা এবং পরিত্রাণের অভিষ্ট লক্ষ্যে
জান্নাতুল ফিরদাউসের কোন এক প্রকোষ্ঠে।

ফেলছো মোদের নানা টেস্টটিউবে পৃথ্বী ল্যাবাগারে
ধন-প্রাণের ক্ষতি কিংবা সুখের উচ্ছলতায়
করিছ যাচাই, কে কত নম্বর তোলে জীবন খাতায়
এ যেন সত্যিই দু’দিনের, পরকালের অসীমতায়
যেমন মোরা চোখ বুজি রাতে, খুলি আবারো দিনে
ইহকাল যেন চোখ খোলা সেই জনম লগনে
আবারও বুজি শেষ সময়ে মোদের মরণে।

ছোট্ট একাল নিয়ে আবর্তিত তব পরিকল্পনা
কতনা গুরুত্ব বহে একাল তোমায়, মোর অজানা
চোখ খুলে আবারও রুহের জগতে হয় পুনর্বাসন
মুনকার ও নকীরের জবাব যেন হয় সহজ স্মরণ
ইল্লিন যেন নিবাস মোদের, জান্নাতের সুবাতাস
পবিত্র আত্মার মিলনে ভরে যায় সে আকাশ
জানিনা কেমনে দিব হিসাব পুরো জিন্দেগানীর
কাওসার পানি মেটায় তেষ্টা, আকুল মিনতির
বাকী রইল পুল সিরাতের অতিক্ষীণ দীর্ঘ পথ
দিও ঠাঁই জান্নাতে মার পা তলে, শেষ এই মত
হবেনা তা শেষ, যতক্ষণ না দেখেছি তোমায় চোখে
দিও সবটুকু ঢেলে কপালে, তৃষ্ণার্ত এ বুকে।

অনন্তের এ সফরে রাখিও অনন্ত সফলতায়
পবিত্রতা তোমার ছড়ায়ে সৃষ্টির অসীমতায়।