লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক ধ্বনিতে
পায়দলে উটে জাহাজে প্লেনে গাড়িতে
চারহাজার বছর ধরে বিশ্বের তাবৎ প্রান্ত হতে
আসে কাফেলার দল । আকাশ বাতাস মরুতে
পাহাড়ে ইথারে ছড়িয়ে সে পবিত্র পরশ
বিলিয়ে দিয়ে নিজেরে নাড়া দেয় খোদার আরশ!
হাজীরা হজ্বে সে দৃশ্য দেখেছ কি তুমি
সফেদ শুভ্র বেশে ধন্য পুণ্যভূমি!
জীবিতরা মৃতের পোশাক কাবার চারধারে
অশ্রু বিগলিত নয়নে ঘুরে ফিরছে সাতবারে
অপার্থিব চেতনায় উচ্চ অনুচ্চ স্বরে
কাঁদছে ডুকরে মাগছে ক্ষমা দোয়া দরুদ পড়ে ।
কি প্রাণান্ত চেষ্টা হাজরে আসওয়াদ চুম্বনে হাতিমে
পেতে কাবার ছোঁয়া; দুরাকাত নামাজ মাকামে ইব্রাহীমে ।
ক্ষুধা তৃষ্ণা যায় ভুলে জমজমের পানি পানে
সাতবার চলা সাফা মারওয়ার মাঝখানে ৷
খাটিয়া চাকাচেয়ার পায়দলে মজনুন অগণন
মা হাজেরার স্মৃতি করে চলেছে বহন।
প্রখর রোদে হেঁটে কিংবা বাসে চড়ে
লক্ষ জনতা ছুটে চলে মিনাপ্রান্তরে
শোনে খোতবা আরাফার নিযুত জনতা
জোহর-আসর শেষে মুজদালিফায় আমজনতা ।
প্রভু প্রেমে মজনুরা মাগরিব এশা শেষে
কাতারে কাতারে শুয়ে থাকে রবের নির্দেশে!
পশু জবাই এ জানি হবে না ইব্রাহীমের ন্যায় কোরবানি
তবু রক্ত প্রবাহে ধুয়ে মুছে যাক সকল পাপের গ্লানি ।
জামারাতে পাথর নিক্ষেপে পরাস্ত শয়তান
বিশ্ব মুসলিম একতাবদ্ধ মানতে খোদায়ী ফরমান ।
বিদায়ী তাওয়াফে মনের কালিমা করতে বিদায়
জান্নাতি হতে প্রভুর মদদ ওদের কামনায় ৷
কতজাতি কতভাষা কত রং স্বল্প সময়ে বিশ্বভ্রমণ
ভ্রাতৃত্ব ভালোবাসা ত্যাগ শৃংখলার এ মহাসম্মেলন ।
জানান দেয় মুসলিম জাতিই সেরা সেরা তার দ্বীন
মানছে সবে জাতির পিতা ইব্রাহীম সাথে মোহাম্মদী দ্বীন।
-১৯৯৮ সালে, প্রথম হজ্ব করার অনুভূতি