Darsul Quran: হজ পালনকারী আল্লাহর মেহমান -প্রফেসর মো. শফিকুল ইসলাম
প্রফেসর মো. শফিকুল ইসলাম ১৭ এপ্রিল ২০২১
وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَّا تُشْرِكْ بِيْ شَيْئًا وَّطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّآئِفِينَ وَالْقَآئِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ. وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَّعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَّأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ. لِّيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِّنْم بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِج فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَآئِسَ الْفَقِيرَ.
অনুবাদ
২৬. আর (স্মরণ কর) যখন আমি ইবরাহিমকে বায়তুল্লাহর স্থান নির্দিষ্ট করে দিয়ে (বলেছিলাম) যে, আমার সাথে কাউকে শরিক করো না এবং তাওয়াফকারী, নামাজে দণ্ডায়মান ও রুকু সেজদাকারীদের জন্য আমার গৃহকে পবিত্র রাখো। ২৭. এবং মানুষের মধ্যে হজের জন্য ঘোষণা করে দাও। তারা প্রত্যেকটি দুই পাহাড়ের মধ্যকার চওড়া পথ মাড়িয়ে দূর-দূরান্ত থেকে তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার দুর্বল উটের পিঠে সওয়ার হয়ে। ২৮. যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত হাজির হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে রিজিক হিসেবে তাঁর দেয়া চতুষ্পদ জন্তু জবেহ করার সময় আল্লাহ্র নাম স্মরণ করতে পারে। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ-অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।” (সূরা হজ: ২৬-২৮)
সূরার নামকরণ এবং হজ শব্দের অর্থ
রাসূলুল্লাহ সা. মহান আল্লাহর ইশারায় অধিকাংশ সূরার ক্ষেত্রে শিরোনাম ব্যতীত নিছক আলামতভিত্তিক নাম রেখেছেন, যা সূরার প্রতীকী বা নিদর্শন। অত্র সূরার ২৭তম আয়াতে (وَأَذِّن فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ) উল্লিখিত ‘বিল হাজ’ (بِالْحَجِّ) শব্দ থেকেই অত্র সূরার নামকরণ ‘আল-হাজ’ করা হয়েছে। ‘আল-হাজ’ (الحج) শব্দের আভিধানিক অর্থ, ইচ্ছা করা, দৃঢ় সঙ্কল্প করা, নিয়ত করা ইত্যাদি। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, মহান আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনের লক্ষ্যে, নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে বায়তুল্লাহ ও নির্দিষ্ট কিছু স্থান জিয়ারাত করাকে ‘হজ’ বলে।
নাজিলের সময়কাল
এ সূরার প্রথম অংশ অর্থাৎ প্রথম থেকে ২৪তম আয়াত পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সা.-এর মাক্কি যুগের শেষদিকে অর্থাৎ হিজরতের কিছুদিন আগে মুসলমানদের ওপর যখন চরম জুলুম নির্যাতন চলছিল ঠিক সেই সময় নাজিল হয়েছে। ২৫তম থেকে ৪১তম আয়াত পর্যন্ত মাদানি জীবনে নাজিল হয়েছে। অধিকাংশ তাফসীরকারকের মতে এটি একটি মিশ্র সূরা। ইমাম কুরতুবী এ মতকে অধিক বিশুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আলোচ্য বিষয়
সূরা আল হজ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। এ সূরায় মানবজাতির সৃষ্টি, জীবন-মৃত্যু, সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ বিধান, সমরনীতি, আল্লাহর ভয়, কিয়ামতের ভয়াবহতা, আখিরাতের চিন্তা, শয়তানের ফাঁদ ও তার থেকে হেফাজত থাকা, বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদের আলোচনা, জান্নাতের সুখ-সমৃদ্ধি ও জাহান্নামের আজাব, জিহাদের অনুমতি ও তার বিধান, হজ, কুরবানি, ইসলামী রাষ্ট্রের কর্ণধারদের কর্তব্য, ধ্বংসপ্রাপ্ত সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়ের চূড়ান্ত ফায়সালা, মুশরিকদের অবস্থা এবং কাফিরদের নিকৃষ্টতম ঠিকানার উল্লেখ আছে।
নির্বাচিত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা
২৬তম আয়াত: কাবাগৃহ নির্মাণ এবং তার পবিত্রতা রক্ষাকরণ
وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ.
“আর (স্মরণ কর) যখন আমি ইবরাহিমকে বায়তুল্লাহর স্থান ঠিক করে দিয়ে (বলেছিলাম) যে, আমার সাথে কাউকে শরিক করো না। এবং তাওয়াফকারী, নামাজে দণ্ডায়মান ও রুকু সেজদাকারীদের জন্য আমার গৃহকে পবিত্র রাখ।”
অত্র আয়াতে মহান আল্লাহ তিনটি বিষয়ে নির্দেশ করেছেন। ১. ইবরাহিম (আ)-কে কাবাগৃহ নির্মাণের নির্দেশনা। ২. আল্লাহর সাথে কাউকে শিরক না করার নির্দেশনা। ৩. কাবাগৃহের পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশনা।
১. কাবাগৃহ নির্মাণের ইতিহাস
কাবা পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন ইবাদতখানা, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মানুষ সৃষ্টির পূর্বে ফিরিশতাদের জন্য নির্ধারণ করেন। মহান আল্লাহ বলেন, إِنَّ أَوَّلَ بَيْتٍ وُضِعَ لِلنَّاسِ لَلَّذِي بِبَكَّةَ مُبَارَكًا وَهُدًى لِلْعَالَمِينَ. ‘নিশ্চয় মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম ঘর মক্কায় অবস্থিত। তাকে বরকত দান করা হয়েছিল এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়াতের কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছিল।’ (সূরা আলে-ইমরান : ৯৬)
মুসলিম মিল্লাতের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল নিয়ামত হলো পবিত্র কাবাগৃহ। এটি বিশ্ব মুসলিমের একমাত্র মিলনকেন্দ্র। মসজিদে হারামে সালাত আদায় করলে এক লক্ষগুণ সাওয়াব লাভ করা যায়। জাবির রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, ‘অন্যত্র সালাত আদায়ের চেয়ে আমার মসজিদে সালাত আদায় করা এক হাজার গুণ উত্তম এবং মসজিদুল হারামে সালাত আদায় করা অন্য মসজিদে সালাত অপেক্ষা এক লক্ষ গুণ উত্তম।’ (সুনানু নাসায়ী)
আদম (আ) নির্মিত কাবা নূহ (আ)-এর প্লাবনের সময় ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু কাবাগৃহের চিহ্নটি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়নি। নূহ (আ)-এর মহা প্লাবনের সময় কাবা শরীফ ধ্বংস হয়ে গেলে পরবর্তীতে ইবরাহিম (আ)-কে কাবাঘর পুনঃনির্মাণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘স্মরণ কর, যখন ইবরাহিম বায়তুল্লাহর ভিত্তিকে উপরের দিকে উঠান।’ (সূরা আল-বাকারা: ১২৭)
২. আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক না করা
আল্লাহ এক অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরিক নেই। এ পৃথিবীতে যত নবী-রাসূল আগমন করেছেন, সকলেরই আহবান ছিল তাওহীদের প্রতি। আল্লাহ ব্যতীত বা আল্লাহর সঙ্গে অন্যের ইবাদত করাই সর্ববৃহৎ পাপ, যা শিরক বলে গণ্য। ইবন আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুলাহ সা. বলেছেন, “যখন তুমি কিছু প্রার্থনা কর, তখন শুধুমাত্র আল্লাহর নিকটেই কর; আর যখন তুমি কোনো সাহায্য প্রার্থনা কর, তখন একমাত্র আল্লাহর নিকটেই কর।” (জামি আত-তিরমিযি)
শিরকের নিষিদ্ধতা
মহান আল্লাহ আল-কুরআনে শিরককে অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, “সুতরাং যে তার প্রতিপালকের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে ও প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।” (সূরা কাহাফ: ১১০)। “তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে ও কোনো কিছুতে তাঁর শরিক করবে না।” (সূরা নিসা: ৩৬)
শিরকের পরিণাম
শিরকের ভয়াবহ পরিণাম বহুবিদ। শিরকের মাধ্যমে ঈমান বিনষ্ট হয়, শিরককারীর সকল নেক আমল বিনষ্ট হয়, এবং শিরককারীর জন্য জান্নাত হারাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করবেন, আর তার পরিণতি হবে জাহান্নাম।” (সূরা মায়িদা: ৭২)
শিরক থেকে বাঁচার উপায়
শিরক থেকে বাঁচতে হলে কুরআন ও হাদীসের সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। রাসূল সা. এবং সাহাবীগণ কিভাবে শিরকমুক্ত জীবন যাপন করেছেন তার সঠিক ইতিহাস জেনে সে অনুযায়ী আমল করতে হবে। সর্বোপরি শিরক থেকে বাঁচার জন্য মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে।
৩. কাবাগৃহের পবিত্রতা রক্ষার নির্দেশনা
মহান আল্লাহ বলেন, (وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ) ‘এবং তাওয়াফকারী, নামাজে দণ্ডায়মান ও রুকু সিজদাকারীদের জন্যে আমার গৃহকে পবিত্র রাখ।’ কাবাগৃহ ইবাদতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ স্থান। মহান আল্লাহ ইবরাহিম (আ) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ)-কে কাবাঘর নির্মাণ ও তা পবিত্র করার নির্দেশ দিয়েছেন।
২৭তম আয়াত : ইবরাহিম (আ)-এর মাধ্যমে হজের প্রবর্তন
وَأَذِّنْ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ يَأْتُوكَ رِجَالًا وَعَلَى كُلِّ ضَامِرٍ يَأْتِينَ مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ
“এবং মানুষের মধ্যে হজের জন্য ঘোষণা করে দাও। তারা প্রত্যেকটি দুই পাহাড়ের মধ্যকার চওড়া পথ মাড়িয়ে দূর-দূরান্ত থেকে তোমার কাছে আসবে পায়ে হেঁটে এবং সর্বপ্রকার দুর্বল উটের পিঠে সওয়ার হয়ে।”
সাম্য-মৈত্রী, ঐক্যবোধ প্রতিষ্ঠায় হজের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি মুসলিম উম্মাহর বিশ্ব সম্মেলন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ হজের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় মহান আল্লাহর পবিত্র ঘর কাবার পানে যার সূচনা হয় ইবরাহিম (আ)-এর ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে।
হজের গুরুত্ব ও ফজিলত
হজ ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ। এটি শারীরিক ও আর্থিক ইবাদাতের শামিল। কবুল হজের পুরস্কার জান্নাত। হজের প্রতিটি কর্ম সম্পাদনের জন্য রয়েছে পৃথক ফজিলত ও মর্যাদা। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের উপর হজ সারা জীবনে একবারই ফরজ হয়।
এক. হজ সম্পর্কিত আল-কুরআনের নির্দেশনা: মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ করা ঐ ব্যক্তির উপর ফরজ করা হলো, যার এখানে আসার সামর্থ্য রয়েছে। আর যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করে সে জেনে রাখুক যে আল্লাহ জগদ্বাসী থেকে মুখাপেক্ষীহীন।’ (সূরা আলে ইমরান: ৯৭)
দুই. হজের গুরুত্ব সম্পর্কিত হাদীস: ইবন আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজের সঙ্কল্প করে সে যেন অবিলম্বে তা আদায় করে।’ (সুনানু ইবন মাজাহ)
তিন. হজ পালন উত্তম ইবাদত: আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘শ্রেষ্ঠ আমল হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপরে ঈমান আনা।’ বলা হলো, তারপর কী? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ জিজ্ঞেস করা হলো, তারপর কী? তিনি বললেন, ‘কবুল হজ।’ (সহীহুল বুখারী)
চার. হজ ও উমরাকারীর দোয়া কবুল করা হয়: আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা হাজীদের গুনাহ ক্ষমা করেন এবং হাজী যাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাদেরকেও ক্ষমা করেন।’ (মুসনাদু বাযযার)
পাঁচ. হাজীগণ আল্লাহর মেহমান: ইবন উমার রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং হজ ও উমরা পালনকারী আল্লাহর মেহমান। আল্লাহ তাদের আহ্বান করেছেন, তারা সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। তারা আল্লাহর কাছে যা চাইছে আল্লাহ তাই তাদের দিয়ে দিচ্ছেন।’ (ইবনু মাজাহ)
২৮তম আয়াত : কুরবানির নির্দেশনা
لِيَشْهَدُوا مَنَافِعَ لَهُمْ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِج فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ .
“যাতে তারা তাদের কল্যাণের স্থান পর্যন্ত হাজির হতে পারে এবং নির্দিষ্ট দিনগুলোতে রিজিক হিসেবে তাঁর দেওয়া চতুষ্পদ জন্তু জবেহ করার সময় আল্লাহ্র নাম স্মরণ করতে পারে। অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুস্থ-অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।”
হজের মাধ্যমে নানাবিধ কল্যাণ
অত্র আয়াতে ‘মানাফি‘ই’ শব্দটি অনির্দিষ্টবাচক ব্যবহার করে ব্যাপক অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ হজ আদায়ের মাধ্যমে দ্বীনি ও দুনিয়াবি উভয় কল্যাণ রয়েছে।
কুরবানির উদ্দেশ্য
শুধু গোশ্ত খাওয়া নয় বরং আল্লাহর নাম স্মরণ করা। কুরবানির পশুর রক্ত, গোশ্ত, পশম কিছুই আল্লাহর নিকট যায় না। আল্লাহ বলেন, ‘এগুলোর গোশ্ত ও রক্ত আল্লাহ্র কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া।’ (সূরা হজ: ৩৭)
কুরবানির গোশ্ত নিজে ভক্ষণ এবং অপরকে তা প্রদান
অত্র আয়াতাংশে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার কর এবং দুস্থ-অভাবগ্রস্তকে আহার করাও।’ সাধারণ কুরবানি এবং হজের কুরবানিসমূহের গোশ্ত তিন ভাগের একভাগ ফকির-মিসকিনকে দান করা মুস্তাহাব।